রবীন্দ্রনাথ ও বসন্তোৎসব...
- ankurantareep1974

- Mar 20, 2019
- 1 min read

দ্বাপরযুগ থেকে শ্রীকৃষ্ণের দোলউৎসব চলছে... এটা মূলত রঙের উৎসব, ঋতুর উৎসব... বসন্তের দখিন সমীরণে দোলায় প্রিয়জনকে মনের রঙে মাতিয়ে তোলার উৎসব... বসন্তোৎসব... দুটো উৎসব... এক আগের দিন হয় হোলিকা দহন এবং দ্বিতীয় ফাল্গুনী পূর্ণিমায় দোলযাত্রা... স্কন্ধপুরাণে ফাল্গুনমাহাত্ম অংশে হোলিকা ও প্রহ্লাদ উপাখ্যান আছে... অন্যদিকে রাধিকার রজঃস্বলা ঢাকতে শ্রীকৃষ্ণ বন্ধুদের সাথে আবির খেলেছিলেন... শ্রীমদ্ভগবত মহাপুরাণে বসন্তরসের বর্ণনা আছে... কবি বিদ্যাপতি থেকে শুরু করে সুরদাস, রহিম, জায়সী, মীরাবাঈ, কবীর এবং বিহারী, কেশব, ঘনানন্দ প্রমুখ অনেক কবির প্রিয় ছিল এই উৎসব... এবং এই উৎসবকে আধুনিকতার নিয়ে দাঁড় করান কবি সার্বভৌম রবীন্দ্রনাথ... উচ্ছ্বাসের সাথে সম্প্রতির ঐতিহ্য তুলে ধরার এক অনন্য উৎসব বসন্তোৎসব... “নীল দিগন্তে ওই ফুলের আগুণ লাগল,
বসন্তের সৌরভের শিখা জাগল...”
১৯০৭ সালে কনিষ্ঠ পুত্র শমীন্দ্রনাথের হাত ধরেই শান্তিনিকেতনে দোল উৎসবের সূচনা... পুত্র শমী বসন্ত সেজে গেয়েছিলেন বাবার লেখা “এ কি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ, প্রাণেশ হে/আনন্দবসন্ত সমাগমে...” এই উৎসবের মাত্র নয় মাস বাদে বসন্তের মাতাল সমীরণে কবি পুত্রের অকাল মৃত্যুর পরেও এই উৎসবে ছেদ পড়েনি... কবিবর আমাদের বসন্তোৎসবের সকালে ডাক দিয়ে বলেন... “ওরে গৃহবাসি খোল, দ্বার খোল, লাগল যে দোল...” কবিই আকাশে বাতাসে ফাগুণের আহ্বান অনুভব করেছেন... “ওরে ভাই ফাগুণ লেগেছে বনে বনে/ডালে ডালে ফুলে ফুলে পাতায় পাতায়...” তিনিই আমাদের নাচান “মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে যে নাচে...” মায়ার খেলায় তিনিই আবার বলেন...
“আহা আজি এ বসন্তে,
এতো ফুল ফোটে,
এতো বাঁশি বাজে, এতো পাখি গায়...”




Comments