top of page

রবীন্দ্রনাথ এবং লালন ফকির

  • Writer: ankurantareep1974
    ankurantareep1974
  • Apr 4, 2019
  • 2 min read

“ডানে বেদ, বামে কোরান,

মাঝখানে ফকিরের বয়ান,

যার সবে সেই দিব্যজ্ঞান

সেহি দেখিতে পাই...”

রবীন্দ্রনাথ লালনের প্রতি অপার ভালোবাসা এবং গুরু ভাবজ্ঞানে লালন সঙ্গীত সংগ্রাহক তথা সংকলক... তিনি সীমাবদ্ধতার ভেতর খুঁজেছেন অসীমের আলোক রশ্মি... পরমের মাঝে বিলীন হওয়ার আনন্দ রাশি...

“সীমার মাঝে, অসীম, তুমি

বাঁজাও আপন সুর।”

পরমাত্মার সাথে মানুষের একাত্ম হবার ধর্মই মানবতা...

রবীন্দ্রনাথ যেখানে অরূপ (নিরাকার) অপরূপ রূপে অবগাহনের নিমিত্তে অতল সাগরে ডুব দিয়ে বলেছেন...

“রূপ সাগরে ডুব দিয়েছি

অরূপ রতন আশা করি;

ঘাটে ঘাটে ঘুরব না আর

ভাসিয়ে আমার জীর্ণ তরি...”

নিজেকে জানার পরিপূর্ন আত্মদর্শনে লালন দ্বিধাহীন কণ্ঠে বলেছেন... “যার আপন খবর আপনার হয় না...” লালনও প্রভু গুরুর সাথে মিলনের তীব্র বাসনায় গেয়ে উঠেছেন... “মিলন হবে কতদিনে...” ঠিক একইভাবে প্রভুর সান্নিধ্য পাবার বাসনায় কবির হৃদয় বলে উঠত...

“যদি তোমার দেখা না পাই প্রভু,

এবার এ জীবনে,

তবে তোমায় আমি পাইনি যেন,

সে কথা রয় মনে...”

বাউল পদাবলীর অনুরক্ত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং লালন শাহের কুড়িটা গান সংগ্রহ করে ১৯০৫ সালে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় প্রকাশ করেন... রবীন্দ্র গানে হয়তবা জ্ঞাত কিংবা অজ্ঞাতেই বাউল সুর ও বাণী মিশেছে... প্রায় ৬৬ টি রবীন্দ্র সঙ্গীত বাউলের আঙ্গিকে... তিনি বাউল কথাও গ্রহণ করেছেন... বাউল গানের সুর ও কথার মাধুর্যেই তিনি সৃষ্টি করলেন মাতৃরূপী বাংলাদেশকে... “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...” ফকিররাজ পরম আত্মাকে কল্পনা করেছেন গুরুর ভণিতায়... সেই সুরেই কবি বলেছেন...

“ তুমি কেমন করে গান করো যে, গুণী,

আমি অবাক গয়ে কেবল শুনি...”

পরমাত্মাকে পাবার অমিত্বের অহংবোধ সাঙ্গ হয় মানব গুরু সাধনে... কবি বলেন...

“ভজন পূজন সাধন আরাধনা

সমস্ত থাক পড়ে।

রুদ্ধদ্বার দেবালয়ের কোণে

কেন আছিস ওরে।”

সেখানে ফকির লালন মানদেহে নিহিত আলোকিত সত্ত্বার উন্মেষের ইচ্ছায় উচ্চারণ করেন...

“মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।

মানুষ ছাড়া খ্যাপা রে তুই

মূল হারাবি...”

গবেষকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ ও লালন ফকিরের কোনদিন সাক্ষাৎ হয় নি... জ্যোতিরিন্দ্রনাথের অপুটু হাতের আঁকা লালনের একমাত্র ছবি প্রমাণ করে যে হয়তবা তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল... রবীন্দ্রনাথ লালনের “খাঁচার ভেতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়...” ইংরাজি অনুবাদ করেছিলেন

 
 
 

Comments


Post: Blog2_Post
  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn

©2019 by Alochonar Abosor. Proudly created with Wix.com

bottom of page