রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল
- ankurantareep1974

- Mar 22, 2019
- 2 min read

“মাধবী হটাৎ কোথা হতে এল ফাগুণ দিনের স্রোতে।
এসে হেসেই বলে, “যাই যাই যাই”...”
প্রথম সাক্ষাতে নজরুলের অনুরোধে কবি এটাই আবৃত্তি করেছিলেন... রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল দুই মহান ব্যক্তিত্ব... আমাদের গর্ব... দুই জনের গুরু-শিষ্যর সম্পর্ক ছিল... রবীন্দ্রনাথ যেমন অনুজ নজরুলকে আশীর্বাদ প্রদান করে প্রীত হয়েছেন, ঠিক তেমনই অগ্রজের প্রতি নজরুলের শ্রদ্ধা ছিল অসীম... রবীন্দ্রনাথ নজরুলকে ‘উদ্দাম’ নামে ডাকতেন... তৎকালীন একটা চক্র দুইজনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অদম্য প্রয়াস করলে তারা সফল হননি... নজরুল হল প্রথম যাকে রবীন্দ্রনাথ নিজের পরিবারের বাইরের কাউকে কোন বই উৎসর্গ করেছিলেন সেটা হল ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য... উত্তরে নজরুল ‘সঞ্চিতা’ উৎসর্গ করেছিলেন কবিকে... দুইজনের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ ১৯২১ সালে শান্তিনিকেতনে... রবীন্দ্রনাথের অনুরোধে সেইদিন নজরুল আবৃত্তি করেছিলেন ‘আগমনী’... পরেও বেশ কয়েকবার দুজনের সাক্ষাৎ হয়েছিল... দুইজনের সম্পর্ক অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে গেলে শ্রদ্ধা ও মৌলিক সম্পর্ক কখনও বিচলিত হয় নি... রবীন্দ্রনাথের কথায় ‘নজরুলের কাব্যে অসির ঝনঝনানি আছে...”... “আয় আয় চলে আয় রে ধুমকেতু/আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু...” নজরুলের ‘ধুমকেতুকে’ শ্রদ্ধা জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ এটা লিখেছিলেন এবং সেটা পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় প্রকাশিত হত... ‘লাঙলের’ প্রচ্ছদে কবির আশীর্বাদবাণী... “ধর, হাল বলরাম/আন তব মরু-ভাঙ্গা হল...” রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান, নাটকে কোথাও কোথাও বৈপ্লবিক চেতনার বাণী হয়তবা নজরুলকে অনুপ্রাণিত করেছিল... মানব ও মানবতায় দুজনের ভাবনার ফারাক নেই... নেই ধর্মপরিচয়ের বাইরে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখাতেও... দুজনেই অসাম্প্রদায়িক এবং সকল সংকির্নতার উর্ধে... রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ...’... সেখানে নজরুল বলছেন ‘আমি আজও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা হারাইনি...”... মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বাণী ছিল বড়ু চন্ডীদাসে ‘সবার ওপর মানুষ সত্য তাহার ওপর নেই’... সেটা রবীন্দ্রনাথ ও নজুরল দুজনেই বিশ্বাস করতেন... সেই বিশ্বাস থেকে নজরুল লিখেছিলেন...
“গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই, নহে কিছু মহীয়ান...”
“ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে জাগায়ো না জাগায়ো না।
সারা জীবন যে আলো দিল ডেকে তার ঘুম ভাঙায়ো না।।”
রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুশোকে নজরুল এটা লিখেছিলেন... আকাশবাণীতে সেইদিন হওয়া ধারাবিবরণী নজরুল নিজে করেছিলেন... আবৃত্তি করেছিলেন ‘রবিহারা’... তিনি ‘সালাম অস্তরবি’ এবং ‘মৃত্যুহীন রবীন্দ্র’ লিখেছিলেন...




Comments