top of page

রবীন্দ্র জীবনে মৃত্যুর অভিধান...

  • Writer: ankurantareep1974
    ankurantareep1974
  • Mar 20, 2019
  • 2 min read

শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি... প্রতিটি ক্ষেত্রেই রবীন্দ্রনাথ তাঁর সৃষ্টির ঐশ্বর্যে আমাদের আলোকিত করেছেন... আমাদের রোজকার সুখ হোক কিংবা দুঃখ, আনন্দ অথবা বেদনা এমনকি  দ্রোহে ও প্রেমে রবীন্দ্রনাথের নান্দনিক সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রেরণা...  সুর্যের ন্যায় দীপ্তি, উত্তাপ ও ঔজ্জ্বল্য নিয়ে তিনি আমাদের অস্তিত্বের অফুরান অনন্ত উৎস...

রবীন্দ্রনাথ আজীবন জীবন-মৃত্যুর সীমানা পেরিয়ে সীমার মাঝেই অসীমের অনুসন্ধানে মগ্ন থেকেছেন... মৃতুবিরহে কাতর হৃদয়ের আর্তনাদ খুবই অল্প বয়সে ভাবিয়া তুলেছে কবিকে... জীবনের পথচলায় মৃতু অনিবার্য, ধ্রুব সত্য... এই মৃত্যু বিলুপ্তি নয়! নয় শূণ্যতা! নয় রিক্ততা বরং সেটা জীবনকে পরিপুর্নতা দেয়... শৈশবে কবি হারিয়েছেন জননীকে, প্রথম যৌবনে নতুন বৌঠানকে... নড়ে গিয়েছিলেন তিনি... উপলব্ধি করেছিলেন সুতীব্র যন্ত্রণা, বিয়োগ বেদনা... তারপরে প্রিয় ‘ছুটি’ জীবন থেকে ছুটি নিয়ে বিদায় নিল...

কবির জীবনে স্ত্রীর মৃত্যুর বিশেষ অভিঘাত স্মরণ কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি লেখনীতে ফুটে ওঠে... “আজিকে তুমি ঘুমাও, আমি জাগিয়া রব দুয়ারে/রাখিব জ্বালি আলো...”  কিংবা সমকালিন নানান গানের কলিতে উঠে এসেছে সেই ব্যাথা... “স্বপন যখন ভাঙিলে রজনী প্রভাতে, মনমোহন গহন যামিনী শেষে, আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু...”

“জীবন যখন শুকায়ে যায়

করুণাধারায় এসো।

সকল মাধুরী শুকায় যায়

গীতসুধারসে এসো।”

কাব্যে কিংবা সাহিত্যে কবির মৃত্যু দর্শন নানান অনুষঙ্গে বিকাশ পেয়েছে... তিনি বিশ্বতানকে জীবনের গানে মেলাবার চেষ্টা করেছেন... তাঁর রচিত দুঃখের গানে আমাদের মন অনন্তের পানে ধেয়ে যায়...

মধ্যম কন্যা রেণুকা, কনিষ্ট পুত্র শমী, জ্যেষ্ট কন্যা বেলার অকাল মৃত্যু এবং বার্ধক্যে এসে সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনাবসান... বারংবার এই শোক ঘিরে ধরেছে কবিকে এবং প্রতিবারই তিনি সামলেছেন প্রকৃতির সাবলীল ধারণা দিয়ে... তিনি মৃত্যুকে বন্দনা করেছেন... “মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান/ মেঘবরণ তুঝ...”

তিনিই বলেছেন... “আমার পৃথিবী তুমি বহু বরষের/তোমার মৃত্তিকা সনে/আমার মিশায়ে লয়ে অনন্ত গগন/অশান্ত চরণে...” রোগশয্যায় শুয়ে তাঁর অবিরাম লেখনীতে ফুটে ওঠে... “আমার দিনে শেষ ছায়াটুকু/মিশাইলে মূলতানে/গুঞ্জন তার রবে চিরদিন...” বাস্তববাদী কবি রোগশয্যায় ও শেষ লেখার পংক্তিতে প্রকাশ করেছেন জীবনব্যাকুল অনন্য অনুভব... তাঁরই ভাষায় প্রকাশ পায়... “মৃত্যু হতে জাগো পুষ্পধনু/হে অতনু, বীরের অনুতে লহ তনু...”

দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করতে পেরেছিলেন... “মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের মূল্য দিতে হয়/সে প্রাণ অমৃতলোক/মৃত্যুকে করো জয়...” জীবনের মধ্য বয়সের দুটো কবিতায়  তিনি প্রকাশ করেছিলেন জন্ম-মৃত্যু কোন এক অজ্ঞাত উপলব্ধি...

 “জীবনের সিংহদ্বারে পশিনু যে ক্ষণে

এ আশ্চর্য সংসারের মহানিকেতনে/

সে ক্ষণ অজ্ঞাত মোর”... এবং মৃত্যুও অজ্ঞাত মোর।

আজি তার তরে/ক্ষণে ক্ষণে শিহরিয়া কাঁপিতেছে ডরে...”

 
 
 

Comments


Post: Blog2_Post
  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn

©2019 by Alochonar Abosor. Proudly created with Wix.com

bottom of page